ত্বকের উজ্জ্বলতায় ঘরোয়া ট্রিটমেন্ট | How to Maintain Skin Brightness at Home

আজ আমরা ত্বকের যত্নে ত্বকের উজ্জ্বলতায় ঘরোয়া ট্রিটমেন্ট ও কিছু টিপস এন্ড ট্রিকস শেয়ার করবো।

মূলত: আমাদের ত্বক বিভিন্ন কারণে কোমলতা ও উজ্জ্বলতা হারায়। এই যে, যেমন আমরা আমাদের সকল প্রকার অনুষ্ঠানে আমরা যেমন ইচ্ছে তেমন খেয়ে থাকি, মোটেই ব্যায়াম করিনা।

বরং বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে আড্ডা মেরেই সময় কাটিয়েদিচ্ছি, ঘণ্টার পর ঘণ্টা ওয়েব সিরিজ় দেখেছি বা দিনের বেলায় খোলামেলা ভাবে এদিক সেদিক ঘুরছি তার সব কিছুর প্রভাব কিন্তু আমাদের ত্বকের উপর পড়ছে।

এর ফলে আমাদের ত্বকের স্বাভাবিক রং হারিয়েফেলছি, তার উপর অনুষ্ঠানের ব্যস্ততায় ঘাটতি দেখাদেয় ঘুমেও।

আমাদের মনে রাখা উচিৎ, ঘুম কম হলেই কিন্তু আমাদের ত্বকের ঔজ্জ্বলতা হারাতে বাধ্য হয়। সেই সঙ্গে বাতাসের দূষণের প্রভাব তো আছেই!


এর জন্য আমরা বাজারে থাকা ভালো মানের ক্রিম বা মহার্ঘ্য ফেশিয়াল ট্রাই করে দেখতে পারি।

তবে তার চেয়েও কোন অংশে পিছিয়ে থাকবে না পরিচিত আমাদের ঘরোয়া সমাধানগুলিও।

ত্বকের উজ্জ্বলতায় ঘরোয়া ট্রিটমেন্ট ও কিছু টিপস এন্ড ট্রিকস

ঘরোয়া কাজগুলোতে তো আর ক্ষতিকারক রায়াসনিক থাকে না। ফলে তা কোমলভাবে আমাদের ত্বককে উজ্জ্বল করে তোলবেই।

তবে এগুলি ট্রাই করার পাশাপাশি প্রতিদিন সুষম খাবার খাওয়ার ব্যাপারে যত্নশীল হয়ে উঠতে হবে।

আমাদের প্রাত্যহিক খাদ্যতালিকায় যেন প্রোটিন, ভিটামিন, মিনারেলের অভাব না থাকে। এ বিষয় গুলোর প্রতিও আমাদের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

এবং দূরে থাকবো অতিরিক্ত তেল-মশলা জনিত খাবার থেকে। এবং খুব বেশি প্রসেসিং করা খাবার খাবো না।

যদি খেতেও হয় তাহলে সপ্তাহে এক থেকে দুই বারের বেশি খাবেন না।

সেই সঙ্গে যথেষ্ট পরিমাণ বিশ্রাম প্রয়োজন। পাশাপাশি চেষ্টা করতে হবে সারাক্ষণ অ্যাকটিভ থাকার।

সকালবেলা আধ ঘণ্টা ব্যায়াম করার পর যদি সারাক্ষণ একটি চেয়ারে ঠায় বসে থাকি, তাহলে কিন্তু আমাদের ত্বকও মুষড়ে থাকবে।

মোটামুটি হাঁটাচলা করতে হবে সারাদিন – অফিসেও নিজের চা বা খাবার নিজেই আনবো।

পানির বোতল ভরার জন্য আরামের সিট ছেড়ে উঠবো। অলসতাকে ঝেড়ে ফেলে দিবো এবং নিজের প্রতি যত্নবান হবো।

তাহলে আমরা আমাদের ত্বকের উজ্জ্বলতা দীর্ঘকাল ধরে রাখতে পারবো। এবং চেহারায় বয়সের চিন্হ রোধ করতে পারবো

আমরা তিনটি বিষয়ের উপর গুরুত্ব দিলে আমাদের স্কিন ইলাস্টিসিটি বৃদ্ধি করতে পারবো।

(এক) এক্সফোলিয়েশন। নিয়ম করে ব্যবহার করুন প্রাকৃতিক এক্সফোলিয়েটর – তাতে ত্বকের উপর মরা কোষের পরত জমতে পারবে না ও ত্বক ঝলমল করবে।

(দুই) দিনের বেলায় অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করবো।

যাঁরা অফিসে কাচের জানলার পাশে বসেন, তাঁরাও দিনের আলো থাকাকালীন বেশ কয়েকবার সানস্ক্রিন লাগাতে হবে।

রোদের প্রভাবে যেন আমাদের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা না হারায়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করার দায়িত্ব আমাদেরই।

(তিন) প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে। ত্বক আর্দ্র থাকলে চট করে বলিরেখা পড়বে না, থাকবে টানটান।

ত্বকের ইলাস্টিসিটি কমতে আরম্ভ করলেই তার উজ্জ্বলতা হারাতে আরম্ভ করে।

আমরা শসা খাবো: আমাদের ত্বকের যে কোনও প্রদাহ কমাতে শসার ব্যবহার বহু আগ থেকেই প্রচলিত রয়েছে।

সেই সঙ্গে চোখের কোলের কালো রঙের আভা তাড়াতেও শসার রস কার্যকর বলে অনেকই মনেকরে থাকেন।

আমরা শসার রস ব্যবহার করবো প্যাকে, ইচ্ছে করলে সরাসরিও লাগাতে পারি।

পাতিলেবুর রস: জানা আছে যে, লেবুর রস প্রাকৃতিক ব্লিচ হিসেবে অনেকেই ব্যবহার করে থাকি।

কিন্তু মনে রাখতে হবে যে, সরাসরি লেবুর রস ত্বকে লাগানো অনুচিত।

এর প্রভাবে ত্বক সাঙ্ঘাতিক সেনসিটিভ হয়ে পড়তে পারে, তীব্র জ্বালাভাবও টের পাওয়া যাবে।

তাই সরাসরি লেবুর রস না লাগিয়ে তা আমরা  ফেস প্যাকের অন্যতম অঙ্গ হিসেবে ব্যবহার করতে পারি।

যেমন: ফুল ফ্যাট দুধ, বেসন বা আটা আর লেবুর রসের প্যাক সাধারণত সব ধরনের ত্বকেই ভালো কাজ করে থাকে।

তবে লেবুর রস ব্যবহার করার পর অবশ্যই ভালো কোনও ময়েশ্চরাইজ়ার লাগাতে হবে। তা না হলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়ার আশংকা খুব বেশি বলেছেন অনেকই।

ত্বকের উজ্জ্বলতায় ঘরোয়া ট্রিটমেন্ট ও আরও কিছু টিপস।

দুধ/ দই আর মধু: দুধ আর দইয়ে উপস্থিত এনজ়াইম আমাদের ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়িতে তুলতে দারুণ কার্যকরি আর মধু কাজ করে প্রাকৃতিক ময়েশ্চরাইজ়ার হিসেবে।

এই দু’টি মিশিয়ে নিয়ে ত্বকে লাগিয়ে নিবো এবং 20মিনিট  পর ধুয়ে নিবো। প্রতিদিন রাতে লাগাতে পারি।

মুখ ধুয়ে নিয়ে অবশ্যই ময়েশ্চরাইজ়ার লাগাবো এবিষয়ে প্রচুর খেয়াল রাখবো।

টোম্যাটো: টোম্যাটোর লাইকোপিন টা ত্বকে বয়সের আক্রমণ ঠেকিয়ে রাখতে দারুণ কার্যকরি।

তা ছাড়া এর অ্যান্টিঅক্সিডান্ট বাড়িয়ে তোলে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতাও বৃদ্ধি করে।

সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার ফেস প্যাকে টোম্যাটো ব্যবহার করতে পারি, সেই সঙ্গে খানিকটা ওটমিল মিশিয়ে নিবো – ত্বক ঝকঝকে পরিষ্কার হয়ে উঠবে।

আধ ঘণ্টা পর প্যাকটা ধুয়ে নিয়ে ময়েশ্চরাইজ়ার লাগিয়ে নিবো। অতি অবশ্যই তার পর সানস্ক্রিন লাগাবো।

চন্দন: আমাদের ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে তুলতে চন্দনের অতুলনীয় গুণাবলী রয়েছে।

বলা হয়, চন্দনে উপস্থিত থাকা টাইরোসিনেস মেলানিনের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিতে পারে।

চন্দনের সঙ্গে আমন্ড পাউডার আর দুধ মিশিয়ে প্যাক বানিয়ে ব্যবহার করতে পারি, এতে আমাদের ত্বক একেবারে ঝলমলিয়ে উঠবে!

সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার ব্যবহার করা যায়। তবে যাঁরা প্রথমবার চন্দন ব্যবহার করছেন।

তাঁরা অবশ্যই একবার প্যাচ টেস্ট করে নিলে খুব ভালো হবে। খেয়াল রাখবো, অনেকের চন্দন ব্যবহারে অ্যালার্জি হয়।

হলুদ: কাঁচা হলুদের নিয়মিত ব্যবহার আমাদের ত্বককে সুস্থ রাখে ও ধীরে ধীরে উজ্জ্বল করে তোলে।

আর আমরা ফেস প্যাকে কাঁচা হলুদ ব্যবহার করতে পারি। এতে ভুল যেন ভুলেও না হয়!

অ্যালো ভেরা: আমরা অ্যালো ভেরা পাতাকে চিরে মাঝের থেকে শাঁসটা বের করে নিবো।

তার মধ্যে হলুদ আর লেবুর রস দিয়ে প্যাক তৈরি করবো।

আর এই প্যাক আমরা এক দিন অন্তর অন্তর ব্যবহার করতে পারি। ব্যবহারের পর আধ ঘণ্টা রেখে মুখ থেকে তুলে ময়েশ্চরাইজ়ার লাগিয়ে নিবো।

আসুন আমরা আমাদের ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে যত্নশীল হই, এবং নিয়ম মেনে বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে করি।

5 thoughts on “ত্বকের উজ্জ্বলতায় ঘরোয়া ট্রিটমেন্ট | How to Maintain Skin Brightness at Home”

  1. Pingback: স্বাস্থ্য সচেতনতায় বিশ্বনবী মুহাম্মাদ সাঃ এর বিজ্ঞানময় শিক্ষা - Drbeautycare

  2. Pingback: ব্রণ ও ব্রণের দাগ দূর করার সহজ ও কার্যকরী ঘরোয়া উপায় - Drbeautycare

  3. Pingback: ভিটামিন ই সাপ্লিমেন্টের উপকারিতা ও ব্যবহার - Religious info

Leave a Comment

Your email address will not be published.